রুট ক্যানেল কি ব্যথাদায়ক?

Root Canal

3 Min

placeholder-landscape

“রুট ক্যানেল কি খুব ব্যথা দেয়?” দাঁতে তীব্র ব্যথা শুরু হলে অনেকেই এই প্রশ্নটা গুগলে সার্চ করেন। অনেক সময় ভয়, ভুল ধারণা এবং অন্যের অভিজ্ঞতার গল্প শুনে মানুষ চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। কিন্তু আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসা অনেক এগিয়েছে। রুট ক্যানেল এখন দাঁত বাঁচানোর একটি নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি। এই লেখায় আমরা জানব রুট ক্যানেল কেন করা হয়, চিকিৎসার সময় আসলে কী ঘটে এবং কতটা অস্বস্তি হতে পারে।

লক্ষণ ও কারণ

রুট ক্যানেল চিকিৎসা প্রয়োজন হয় যখন দাঁতের ভেতরের অংশ, যাকে পাল্প (pulp: দাঁতের ভেতরের স্নায়ু ও রক্তনালীযুক্ত অংশ) বলা হয়, সংক্রমিত বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অংশটি সংক্রমিত হলে ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে পারে।

 

সাধারণ লক্ষণ

 

- দাঁতে তীব্র বা ধকধক ধরনের ব্যথা

- গরম বা ঠান্ডা খাবারে অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা

- দাঁত চাপ দিলে ব্যথা

- মাড়িতে ফোলা বা পুঁজ

- দাঁতের রঙ পরিবর্তন

 

সংক্রমণের কারণ

- দীর্ঘদিনের untreated cavity

- পরনো ফিলিংয়ের নিচে জীবাণু প্রবেশ

- দাঁতে আঘাত বা ফাটল

- ভাঙা দাঁতের মাধ্যমে সংক্রমণ

 

American Association of Endodontists এর তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমিত পাল্প অপসারণ করে দাঁত সংরক্ষণ করা দাঁত তুলে ফেলার চেয়ে বেশি কার্যকর সমাধান হতে পারে, যদি সময়মতো চিকিৎসা করা হয়।

 

রুট ক্যানেল চিকিৎসার সময় কী ঘটে?

 

চিকিৎসা শুরু করার আগে আক্রান্ত দাঁত ও আশপাশের অংশ অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে অবশ করা হয়। অ্যানেস্থেশিয়া মানে এমন ওষুধ যা সাময়িকভাবে সেই অংশের অনুভূতি বন্ধ করে দেয়, যাতে চিকিৎসার সময় ব্যথা না লাগে। এরপর দাঁতের উপরের অংশে ছোট একটি পথ তৈরি করে ভেতরের সংক্রমিত পাল্প সরানো হয়। রুটগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয় এবং পরে বিশেষ উপাদান দিয়ে ভরাট করা হয়।

 

অনেকেই ভাবেন রুট ক্যানেল মানেই দীর্ঘ ও কষ্টকর প্রক্রিয়া। বাস্তবে এটি নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত চিকিৎসা। রোগী সাধারণত চাপ বা নড়াচড়ার অনুভূতি পান, কিন্তু তীব্র ব্যথা সাধারণত থাকে না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসার আগের সংক্রমণের ব্যথাই বেশি কষ্টদায়ক হয়।

 

চিকিৎসার পরে কী ধরনের অস্বস্তি হতে পারে?

 

রুট ক্যানেলের পরে ২–৩ দিন হালকা অস্বস্তি, দাঁত চিবানোর সময় সামান্য চাপ বা সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। এটি স্বাভাবিক এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকে। বেশিরভাগ রোগী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক খাবার খেতে পারেন।

 

চিকিৎসার পরে কখনো কখনো দাঁতের উপরে ক্রাউন (crown: দাঁতের উপরে বসানো কৃত্রিম আবরণ) লাগানো প্রয়োজন হতে পারে, যাতে দাঁত শক্ত থাকে এবং ভবিষ্যতে ভেঙে না যায়। এটি দাঁত দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

 

প্রতিকার ও সচেতনতার টিপস

 

রুট ক্যানেল অনেক সময় এড়ানো যায় যদি দাঁতের যত্ন নিয়মিতভাবে নেওয়া হয়। দিনে অন্তত দুইবার সঠিকভাবে ব্রাশ করা, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করা এবং ছয় মাস অন্তর ডেন্টাল চেকআপ করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতে হালকা ব্যথা বা সংবেদনশীলতা শুরু হলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

 

অনেকে দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় খোঁজেন। লবণ পানি দিয়ে কুলি করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু এটি সংক্রমণ সারিয়ে তোলে না। ব্যথা কমে গেলেও ভেতরের সমস্যা থেকে যেতে পারে। তাই সাময়িক আরাম নয়, সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি থাকলে দেরি না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন:

- দুই দিনের বেশি স্থায়ী তীব্র দাঁতের ব্যথা

- মাড়ি ফুলে যাওয়া বা পুঁজ দেখা দেওয়া

- জ্বরের সাথে দাঁতের ব্যথা

- মুখের এক পাশে অস্বাভাবিক ফোলা

- চিবাতে গেলে তীব্র ব্যথা

এসব উপসর্গ ইঙ্গিত দিতে পারে যে সংক্রমণ গভীর হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় জটিলতা এড়ানো যায়।


রুট ক্যানেল নিয়ে ভয় ও ভুল ধারণা অনেক পুরনো অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। আধুনিক অ্যানেস্থেশিয়া ও উন্নত প্রযুক্তির কারণে এখন রুট ক্যানেল চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক ও নিরাপদ। এটি দাঁত তুলে ফেলার পরিবর্তে প্রাকৃতিক দাঁত সংরক্ষণের একটি কার্যকর উপায়। ভয় পেয়ে চিকিৎসা দেরি না করে সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

 

দাঁতে ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করবেন না। Aesthetic Dental & Orthodontic Centre এ এসে সঠিক মূল্যায়ন ও ব্যাখ্যাসহ চিকিৎসা নিন। সময়মতো চিকিৎসা আপনার স্বাভাবিক দাঁত বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।