দাঁতে তীব্র ব্যথা হলে কী করবেন? কারণ ও ঘরোয়া করণীয়

General Dentistry / Dental Pain

5-6 Mins

placeholder-landscape

হঠাৎ দাঁতে তীব্র ব্যথা শুরু হলে মানুষ প্রথমেই গুগলে সার্চ করেন, “দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়” বা “দাঁতে তীব্র ব্যথা হলে কী করবো”। ব্যথা এতটাই অসহ্য হতে পারে যে খাওয়া, ঘুমানো এমনকি কথা বলাও কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু ব্যথা কমানোর চেষ্টা করার আগে এর কারণ বোঝা জরুরি। কারণ সঠিক চিকিৎসা ছাড়া শুধু ব্যথা কমানো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

 

 লক্ষণ ও কারণ

দাঁতের তীব্র ব্যথা সাধারণত ভেতরের কোনো সংক্রমণ, স্নায়ুর প্রদাহ বা দাঁতের গঠনগত সমস্যার কারণে হয়।

সাধারণ লক্ষণ

- ধকধক বা স্পন্দনযুক্ত ব্যথা

- গরম বা ঠান্ডা খাবারে তীব্র সংবেদনশীলতা

- দাঁত চাপলে ব্যথা

- মাড়িতে ফোলা বা পুঁজ

- মুখের একপাশে অস্বস্তি বা ভারী লাগা

 

সম্ভাব্য কারণ

- গভীর ক্যাভিটি বা দাঁতের ক্ষয়

- রুট ক্যানেল সংক্রমণ

- দাঁতে ফাটল বা ভাঙন

- মাড়ির সংক্রমণ

- আটকে থাকা খাদ্যকণা

সংক্রমণ দাঁতের ভেতরের পাল্পে পৌঁছে গেলে ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে। পাল্প মানে দাঁতের ভেতরের স্নায়ু ও রক্তনালীর অংশ। এই অংশে প্রদাহ হলে শরীর ব্যথার মাধ্যমে সতর্ক করে।

 

 দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

দাঁতে তীব্র ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে ডেন্টিস্টে যাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। সেই সময় কিছু সাময়িক পদক্ষেপ ব্যথা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

লবণ মিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করলে প্রদাহ কিছুটা কমতে পারে এবং মুখ পরিষ্কার থাকে। ঠান্ডা সেক বা আইস প্যাক মুখের বাইরের অংশে ধরে রাখলে ফোলা কমাতে সাহায্য করে। তবে বরফ সরাসরি দাঁতে লাগানো উচিত নয়।

ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কখনোই ব্যথার জায়গায় সরাসরি ওষুধ বা রাসায়নিক কিছু লাগানো ঠিক নয়। এতে মাড়ি পুড়ে যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে, এগুলো সাময়িক আরাম দেয়। সংক্রমণ থাকলে তা নিজে নিজে সেরে যায় না।

 

 কেন ব্যথা অবহেলা করা উচিত নয়?

অনেকে ভাবেন ব্যথা কয়েকদিন পরে নিজে থেকেই কমে গেছে মানে সমস্যা শেষ। বাস্তবে অনেক সময় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যথা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, কিন্তু সংক্রমণ ভেতরে থেকে যায়। পরে তা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

World Health Organization এর তথ্যমতে, untreated dental caries বা দাঁতের চিকিৎসাহীন ক্ষয় বিশ্বব্যাপী খুব সাধারণ সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ মাড়ি ও আশপাশের হাড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

 কখন ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে ডেন্টিস্টের কাছে যান:

- দুই দিনের বেশি স্থায়ী তীব্র ব্যথা

- মাড়িতে পুঁজ বা অস্বাভাবিক ফোলা

- জ্বরের সাথে দাঁতের ব্যথা

- মুখ বা গালে ফোলা

- চিবাতে গেলে তীব্র যন্ত্রণা

এসব লক্ষণ গভীর সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিলে জটিলতা কমানো যায়।

 

 দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের উপায়

দাঁতের তীব্র ব্যথা এড়াতে নিয়মিত মৌখিক যত্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত দুইবার ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার এবং ছয় মাস অন্তর ডেন্টাল চেকআপ করানো ভালো অভ্যাস। চিনি ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

ছোট সমস্যা থাকতেই চিকিৎসা করলে বড় ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন কমে যায়।

 

দাঁতে তীব্র ব্যথা শরীরের একটি সতর্ক সংকেত। সাময়িকভাবে ব্যথা কমানোর উপায় আছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য কারণ নির্ণয় করা জরুরি। ভয় না পেয়ে সময়মতো ডেন্টাল পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, দাঁত সংরক্ষণের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।

 

আপনি বা আপনার পরিবারের কারও দাঁতে তীব্র ব্যথা হলে দেরি করবেন না। Aesthetic Dental & Orthodontic Center এ এসে সঠিক মূল্যায়ন ও ব্যাখ্যাসহ চিকিৎসা নিন। সময়মতো পদক্ষেপ আপনার দাঁতকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।